শিশুর মৃত্যু, লকডাউনে এক মর্মান্তিক ঘটনা সাক্ষী কলকাতা

লকডাউনের মাঝে কলকাতা শহরে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ঘটনা। বাবা মায়ের কোল খালি করে চলে গেল মাত্র আড়াই বছরের একটি শিশু। সাক্ষী কলকাতা

শিশুর মৃত্যু ঃ করোনা ভাইরাসের মোকাবিলায় দেশ জুড়ে চলছে লকডাউন। বিভিন্ন মাধ্যম থেকে খবর আসছে পরিসংখ্যান কত হল কত হল অর্থাৎ করোনা আক্রান্তে সংখ্যা বাড়ছে না কমছে আবার কেউ মারা গেল নাকি ইত্যাদি ইত্যাদি। আর কিছু খবর কোথায় কে লকডাউন মানলো না বা কোথায় কে কিছু অনুদান করল ইত্যাদি ইত্যাদি। আর সাথে কিছু গুজব খবর আর স্যোশাল মিডিয়াতে কিছু পোস্ট।

ঠিক এর মাঝখানে কলকাতা শহরে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ঘটনা। বাবা মায়ের কোল খালি করে চলে গেল মাত্র আড়াই বছরের একটি শিশু।

সেই আড়াই বছরের শিশুটি কি করোনায় আক্রান্ত হয়েছিল ?

আসলে সেই সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরে ঘুরে বেড না পেয়ে অবশেষে ক্লান্ত হয়ে চির বিদায় জানিয়েছে সেই শিশু।

হয়তো সে বলতে চেয়েছিল আর একটু অক্সিজেন পেলে হয়তো আমি আরো কয়েকটি হাসপাতালে যাওয়ার লড়াইটা করতে পারতাম। আর একটু অক্সিজেন পেলে আমি হয়তো আমার বাবার কোলে আরো কিছুক্ষণ থাকতে পারতাম। যদি আরো একটু অক্সিজেন পেতাম তাহলে আমি বেঁচে যেতাম।

আরো খবর করোনা প্রতিষেধক আবিষ্কারের এক ধাপ এগোল ইজরায়েল

কিন্ত তা হল না সকাল 11টা থেকে বিকাল 3টে পর্যন্ত বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরে ঘুরে শেষে কলকাতা মেডিক্যাল হাসপাতালে পৌছালে চিকিৎসক জানায় শিশুটা মারা গেছে। রাস্তাতেই অক্সিজেন ফুরিয়ে যেতে মারা গেছে শিশুটি।

যেহেতু রাস্তায় মারা গেছে তাই নিয়ম অনুসারে তার ময়না তদন্ত হওয়া উচিত সেই মত কাগজ পত্র তৈরী করতে গিয়ে মিল আর একটি সুত্র।

শিশুটি নিউমোনিয়া রোগের চিকিৎসায় শিশুমঙ্গল হাসপাতালে ভর্তি ছিল। নিউমোনিয়া রোগের আক্রান্ত হওয়ার কারণ নোভেল করোনা ভাইরাস কিনা সেটা পরীক্ষা করতে তার লাল রসের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল বেলাঘাটার নাইসড ও এস এস কে এম হাসপাতালে।

শিশুর মৃত্যু

খবরটি হাসপাতাল আধিকারীকদের কাছে পৌছাতেই শুরু হয় তৎপরতা। মাদার এন্ড চাইল্ড হাবের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হল। পরিবারটিকে একটি ঘরে বসে থাকার অনুরোধ জানানো হয়। চিকিৎসক কে আর একটি আলাদা ঘরে বসে থাকার অনুরোধ করা হয়। নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আলাদা করে ফেলা হল।

অপেক্ষার পরে সন্ধ্যে ছটায় রির্পোট পৌছায় কলকাতা মেডিক্যাল হাসপাতালে। সেই রির্পোট নেগেটিভ। অর্থাৎ করোনা ভাইরাস আক্রান্ত ছিলনা শিশুটি। তারপর আবার নিয়ম মেনে শিশুর দেহ পাঠানো হল মর্গে।

আরো খবর অবশেষে কুকুর ও বিড়ালের মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ করল চীন।

সূত্রের খবর, শিশুটির দাদু শরফূদ্দিন জানান, নিউমোনিয়া রোগের চিকিৎসার জন্য শিশুটি শিশু মঙ্গল হাসপাতালে ভর্তি ছিল। বুধবার সকালে স্বাস্থ্যের অবনতি হলে শিশু মঙ্গলের চিকিৎসকার তাকে এস এস কেম স্থানান্তরিত করেন। এস এস কে এম বে বেড না থাকায় সেখান থেকে আইসি এইচএ যেতে বলা হয়। আইসি এইচএ এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, সেখানে বেড নেই। তারা বেলেঘাটা আইডিতে স্থানান্তরিত করেন। এরপর আবার এস এস কে এম ঘুরে অবশেষে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে আসতে আসতে অক্সিজেনের অভাবে মারা গেল শিশুটি। মেডিক্যাল কলেজের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে অক্সিজেনের অভাবেই মারা গেছে শিশুটি।

তাহলে প্রশ্ন থেকে গেল, যে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতাল পরিভ্রমনে বেরিয়ে শিশুটি সেই অ্যাম্বুলেন্সে থাকা অক্সিজেন কি ফুরিয়ে গেছিল ? যার কারণে পর্যাপ্ত পরিমান অক্সিজেন পেলো না শিশুটি !

যদি এই খবরটি আপনি পুরো পরে থাকেন যদি মনে হয় সকলকে শেয়ার করা উচিত তাহলে অবশ্যই শেয়ার করেবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x
Translate »