তবলিঘ-ই-জামাত করোনা আক্রান্তদের মধ্যে 30 শতাংশ

নিজামুদ্দিন মসিজিদে বাংলা থেকে 37 জন  তবলিঘ-ই-জামাত সদস্য উপস্থিত ছিল। বিস্তারিত পড়ুন

দিল্লির নিজামুদ্দিন এলাকার মসজিদের তাবলিঘ-ই-জামাত দের থেকে করোনা সংক্রমণ ঠিক কতটা ছড়িয়েছে তার পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসেব পাওয়া গেল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক দপ্তর থেকে।

তবলিঘ-ই-জামাত

শনিবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের সাংবাদিক বৈঠকে Joint Secretary Lob Agarwal জানান, এখনও পর্যন্ত ১৭ টি রাজ্যে তবলিঘ-ই-জামাতদের থেকে সংক্রমণ ছড়িয়েছে। জামাত সদস্যদের সংস্পর্শে এসে পজিটিভ হয়েছেন আরো ১০২৩ জন। দেশে এখনও পর্যন্ত ২৯০০-র বেশি মানুষ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। অর্থাৎ মোট আক্রান্তের ৩০ শতাংশ সংক্রমণ ছড়িয়েছে নিজামুদ্দিনের মসজিদে যোগদানকারীদের থেকেই।

তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ, অসম, কর্ণাটক, উত্তরাখণ্ড, মহারাষ্ট্র-সহ মোট ১৭ টি রাজ্য সংক্রামিতের খোঁজ মিলেছে যারা দিল্লির মসজিদে উপস্থিত ছিল সেই দিন। বাংলা থেকেও ৭৩ জন তবলিঘ-ই-জামাত সদস্য উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। তবে তাদের মধ্যে এখনও কারও পজিটিভ ধরা পড়েনি বলে জানা গেছে।

বিদেশি জামাত সদস্যদের সংখ্যা নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য সামনে এসেছে। রাজধানী দিল্লীর বিভিন্ন প্রান্তের বহু মসজিদে লুকিয়ে ছিল বিদেশি তবলিঘ-ই-জামাত সদস্যরা। দিল্লি পুলিশ, স্বাস্থ্যকর্মী ও সরকারি আধিকারিকদের একাধিক দল গত চারদিনে যে তথ্য জোগাড় করেছে, তাতে লুকিয়ে থাকা বিদেশি জামাত সদস্যদের প্রায় সংখ্যা ৮০০-র বেশি।

এই সংখ্যা সামনে আসার পরই করোনা ভাইরাস নিয়ে নতুন উদ্বেগ শুরু হয় গোটা রাজধানীতে। প্রথমে মনে করা হয়েছিল, দিল্লির মধ্যে শুধু নিজামুদ্দিন এলাকার মসজিদের ছ’তলার ডরমেটরিতেই দু’শোর বেশি বিদেশি নাগরিক রয়েছে। কিন্তু শনিবার সকালে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে যে সংখ্যাটা আরও অনেক বেশি প্রায় ৮০০।

দিল্লী পুলিশ সংবাদমাধ্যমকেও যে তথ্য দিয়েছে তাতে বলা হয়েছে, উত্তর-পূর্ব দিল্লির মসজিদ থেকে ১০০ জন, দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লি থেকে ২০০ জন দক্ষিণ ও পশ্চিম দিল্লি থেকে ১৭৭জনের খোঁজ পাওয়া গেছে।

রাজধানী দিল্লির নিজামুদ্দিন এলাকার মসজিদে তবলিঘ-ই-জামাতে যোগ দেওয়া ৯৬০ জন বিদেশি নাগরিককে চিহ্নিত করে বৃহস্পতিবারই তাদের কালো তালিকাভুক্ত করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। শুক্রবার কেন্দ্রের তরফ থেকে জানানো হয় পৃথিবীর ৪১টি দেশ থেকে দিল্লির মসজিদে এসেছিল এই জামাত সদস্যরা। নতুন করে ৮০০-র বেশি সদস্য লুকিয়ে থাকা বিদেশির সন্ধান মেলার পর সংখ্যাটা আরও বাড়বে বলেই মনে করছে স্বাস্থ্য দপ্তর।

আরো খবড় পড়ুন Corona Lockdown : ফের কেন রবিবার দেশবাসীর কাছে সময় চাইলেন Modi?

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সূত্রের খবর, ইন্দোনেশিয়া থেকে এসেছিল ৩৭৯ জন, বাংলাদেশ থেকে ১১০ জন, কিরঘিজস্তান থেকে ৭৭ জন, মায়ানমার থেকে ৬৩ জন এবং তাইল্যান্ড থেকে ৬৫ জন এসেছিল। এছাড়াও উত্তর আমেরিকা, ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ-সহ মোট ৪১টি দেশের নাগরিকরা যোগ দিয়েছিল নিজামুদ্দিনের মসজিদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে

আরো খবর পড়ুন করোনা প্রতিষেধক আবিষ্কারের এক ধাপ এগোল ইজরায়েল

গৃহমন্ত্রকের ইমিগ্রেশন বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এরা প্রত্যেকে ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে ভারতে এসেছিলেন। কিন্তু ভারতের আইন লঙ্ঘন করেছে। প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র।

দিল্লির মসজিদে যারা এসেছিল তাদের মধ্যে প্রথম ১১ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের পজিটিভ রিপোর্ট পাওয়া গেছে। এই ১১ জনই হলেন ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক। তাদের করোনা সক্রান্ত পরীক্ষা করা হয় হায়দরাবাদে।


তেলেঙ্গানায় ৬ জন করোনা আক্রান্তের মৃত্যু হয়েছে যারা দিল্লির ঐ মসজিদে অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিল। মসজিদের প্রধান মৌলানার হদিশ পাওয়া যাচ্ছিল না। যদিও তিনি এদিন অন্তরালে থেকে একটি ভিডিওবার্তায় বলেছেন, কোয়ারেন্টাইনে আছেন। অন্যদের পরামর্শ দিয়েছেন, চিকিৎসকদের কথা মতো চলতে।

নিজামুদ্দিনের ঘটনা সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসে কেন্দ্র। সব রাজ্যগুলিকে জরুরি ভিত্তিতে নির্দেশ দেয় হয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক ও স্বাস্থ্যমন্ত্রক পক্ষ থেকে। বলা হয়, দ্রুত তাদের চিহ্নিত করে বিচ্ছিন্ন করতে হবে। এদিনের পরিসংখ্যানে স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানালো দেশের মোট করোনা সংক্রান্তদের মধ্যে ৩০ শতাংশের হল তাবলিঘ-ই-জামাত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x
Translate »