মমতা বিরোধী অধীর রাজ্যের দায়িত্বে, বিজেপি বিরোধী জোট কতখানি !

ঘোর মমতা বিরোধীর হাতে প্রদেশ কংগ্রেসের দায়িত্বভার, অধীরের ফেরায় বিজেপি বিরোধী কং- তৃণমূল জোটের আশা শেষ

বিশেষ প্রতিবেদন সঞ্জয় সাহা , মমতা ব্যানার্জীর ঘোর বিরোধী অধীর চৌধুরি এখন প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি। বিজেপি বিরোধী জোটের আশা কতখানি বিস্তারিত পড়ুন

৩৪ বছরের বাম শাসনকে রাজ্য থেকে উৎখাত করার জন্য জোট বেঁধেছিল সেসময়কার রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং জাতীয় কংগ্রেস। উভয়ের যৌথ উদ্যোগেই রাজ্যে ঘটেছিল পরিবর্তন। কিন্তু তারপর গঙ্গা দিয়ে বয়ে গেছে অনেক জল। যে তৃণমূল কংগ্রেসের সাথে যোগ করে এ রাজ্যে বাম শাসনের অবসান ঘটিয়েছিল কংগ্রেস তাদেরই বিরুদ্ধে ২০১৬ সালে তারা হাত মিলিয়েছিল বামফ্রন্টের সাথে।

মমতা বিরোধী অধীর রাজ্যের দায়িত্বে, বিজেপি বিরোধী জোট কতখানি !

আর কংগ্রেসের তরফে এই জোটের নেতৃত্বে ছিলেন তৎকালীন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী। কিন্তু সোমেন মিত্রের তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে ফেরার পর তাকে প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি নিযুক্ত করা হলে ২০১৯ এ তৃণমূল বিরোধী বাম কংগ্রেস জোট গড়ে উঠতে পারেনি।

আর এবার সৌমেন এর মৃত্যুর পর ফের একবার প্রদেশ সভাপতির দায়িত্বে এলেন বাম কংগ্রেস জোটের অন্যতম কাণ্ডারী অধীর রঞ্জন চৌধুরী। আর তাই রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে বিজেপিকে আটকাতে তৃণমূল ও কংগ্রেসের জোটের সম্ভাবনা কার্যত চলে গেল বিশবাঁও জলে।

মমতা বিরোধী অধীর রাজ্যের দায়িত্বে, বিজেপি বিরোধী জোট কতখানি !

বহরমপুর সংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরীর মমতা বিরোধিতা কারোরই অজানা নয়। বাংলার রাজনীতিতে মমতা এবং অধীরের মিত্রতা কখনোই লক্ষ্য করা যায়নি।

আর তাই যেভাবে এর আগেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে কোনরকম রেয়াত অধীর করেননি ,এবারও তার নেতৃত্বাধীন প্রদেশ কংগ্রেস কখনোই বিজেপি বিরোধী তৃণমূলের সভা কোন জোটে শামিল হবে না বলে একমত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞগণ।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা এর ফলে তৃণমূলের জন্য একুশের লড়াই আরো অনেক বেশি কঠিন হয়ে গেল। কারণ কংগ্রেসের সাথে মমতার জোট হলে তাপের সবথেকে বেশি লাভবান হতো তৃণমূলই।

Monalisa কালো বিকিনিতে স্বামীর সাথে জলকেলিতে মগ্ন

কিন্তু অধীরের প্রদেশ কংগ্রেসের দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই জোটের ভবিষ্যৎ এখন কার্যত হিমঘরে চলে গিয়েছে। অনেকের মতে এই খবর যতটা তৃণমূলের কাছে চিন্তার ততটাই সুখবর এ রাজ্যের বিজেপির জন্য। বিশেষত উত্তরবঙ্গে যেখানে কংগ্রেস এখনও বেশ কিছুটা শক্তিশালী সেখানে তৃণমূল ও কংগ্রেসের জোট হলে বিজেপির পক্ষে উত্তর বঙ্গের জেলা গুলি থেকে আসন জয়লাভ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়তে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষক মহল।

যদিও একথা অত্যন্ত পরিষ্কার যে কোন ধরনের চতুর্মুখী লড়াইয়ে যেতে প্রদেশ সভাপতি আগ্রহী নন। বরং অধীরের প্রদেশ সভাপতি হওয়ার ফলে বাম কংগ্রেস জোটের রাস্তা আরো মসৃণ হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

মমতা বিরোধী অধীর রাজ্যের দায়িত্বে, বিজেপি বিরোধী জোট কতখানি !

তার কারণ অধীর চৌধুরী বরাবরই বামেদের সঙ্গে নির্বাচনী জোটের পক্ষে থেকেছেন। এমনকি বিগত লোকসভা নির্বাচনে বহরমপুরে অধীরের বিরুদ্ধে কোন প্রার্থী দেয়নি বামফ্রন্ট। ফলে আগামী দিনে তৃণমূল এবং বিজেপি উভয়ের বিরুদ্ধে বাম ও কংগ্রেসের যৌথ লড়াই আরো জোরদার হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। অধীর নিজেও ২০১৬ রতন বাম কংগ্রেস জোটের পক্ষে।

যদিও একথা ঠিক যে ২০১৬ সালে বাম এবং কংগ্রেসের মধ্যে যে নির্বাচনী সমঝোতার হয়েছিল তা রাজ্য রাজনীতিতে ঝড় তুললেও তৃণমূল বিরোধী জোট তাদের লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয় এবং একা লড়াই করেই মমতার তৃণমূল ঐতিহাসিক জয় লাভ করে।

এমনকি ২০১৯ সালেও বাম কংগ্রেস আসুন সমঝোতার চেষ্টা চালানো হলেও তা শেষ মুহূর্তে ভেস্তে যায়। এ ব্যাপারে দুটি দলই একে অন্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিল। কিন্তু নির্বাচনে বাম কংগ্রেসের ব্যাপক ভরাডুবি উভয়কে পুনরায় একে অপরের কাছাকাছি এনে দিয়েছে। তাই বিজেপি এবং তৃণমূল উভয়ের বিরুদ্ধে যৌথ লড়াইয়ে আবারও একসাথে দেখা যাচ্ছে বাম ও কংগ্রেস নেতৃত্বকে।প্রদেশ সভাপতির পদে অধীর এর আগমন এই ঐক্যবদ্ধ লড়াইকে নির্বাচনী জোটে উত্তীর্ণ করবে বলে আশাবাদী বাম ও কংগ্রেসের জোট পন্থী নেতৃত্ব।

প্রসঙ্গত ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় থেকে তৃণমূল ও কংগ্রেস এ রাজ্যে বাম শাসনকে উৎখাত করতে জোটবদ্ধ হলেও মমতার ক্ষমতায় আসার মাত্র দু’বছরের মধ্যে এই জোট ভেঙে যায়। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তৃণমূল একের পর এক কংগ্রেস বিধায়ক ও নেতাদের তাদের দলে টানার চেষ্টা করেন। উভয়ের জোট থাকাকালীনই একাধিক কংগ্রেসী বিধায়কের তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদানের ঘটনা সামনে আসে।

২০১৬ নির্বাচনের পরেও এই ধারা অব্যাহত থাকে। এখনো এ রাজ্যের বহু কংগ্রেস বিধায়ক খাতায়-কলমে বিধানসভায় কংগ্রেসের বিধায়ক হলেও তারা তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য। এমতাবস্থায় কংগ্রেসের অভিযোগ হলো যে, মিত্র হওয়া সত্বেও তৃণমূল চিরকাল কংগ্রেসকে পিছন থেকে ছুরিকাঘাত করার কাজ করেছে। তাই বাংলায় কংগ্রেসকে সাইনবোর্ডে পরিণত করার চেষ্টা যে দল করেছে সেই দলের সাথে কোন ধরনের জোটে যেতে বাংলার কংগ্রেস কর্মীরা যে একেবারেই আগ্রহী নয় এ ব্যাপারে স্পষ্ট ভাষায় নিজের মত প্রকাশ করেছেন অধীর চৌধুরী।

কংগ্রেস নেতৃত্বের মতে নিজের ক্ষমতা ফেরা নিশ্চিত করতেই আজ মমতা পুনরায় কংগ্রেসকে কাছে টানার চেষ্টা করছেন, যাতে বিজেপি বিরোধী ভোটের একীকরণ করা যায় এবং তার মাধ্যমে তিনি নিজের মুখ্যমন্ত্রীর আসন রক্ষা করতে পারেন।

তাই রাজনৈতিক মহলের মতে বিধানসভা নির্বাচন যতই এগিয়ে আসবে তৃণমূল এবং বিজেপির বিরুদ্ধে কংগ্রেসের লড়াইয়ের ঝাঁঝ সমানভাবেই বাড়বে। অধীর চৌধুরীর পুনরায় ফিরে আসায় কংগ্রেসের কর্মী সমর্থকদের মধ্যেও নতুন করে উৎসাহের সঞ্চার হয়েছে। আর পুনরায় বাম কংগ্রেস জোট তৈরি হলে এই উৎসাহ আরো বাড়বে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

কিন্তু একই সঙ্গে অধীরের এন্ট্রি তৃণমূলের বিজেপি বিরোধী ভোটের একত্রিতকরণের যাবতীয় হিসেব নিকেষ যে একেবারেই গুড়িয়ে দিল সে ব্যাপারে সহমত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকমহল।

মমতা বিরোধী অধীর চৌধুরী কি বাংলায় ফেরাতে পারবে কংগ্রেস হারিয়ে যাওয়া সোনালী দিন ? আপনার মতামত কমেন্ট করে জানাতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x
Translate »