ব্ল্যাক ফাঙ্গাস হোয়াইট ফাঙ্গাস নাকি ইয়েলো ফাঙ্গাস কোনটা বেশি মারাত্মক ?

ব্ল্যাক ফাঙ্গাস হোয়াইট ফাঙ্গাস নাকি ইয়েলো ফাঙ্গাস কোন ফাঙ্গাস বেশি মারাত্মক ? জেনে নিন বিস্তারিত

ব্ল্যাক ফাঙ্গাস – দেশ এখন করোনা র দ্বিতীয় ঢেউয়ের ধাক্কায় বেসামাল , আর এরই মধ্যে একের পর এক নতুন নতুন রোগের উদ্ভবের ফলে আতঙ্ক কমার বদলে দিন দিন উত্তরোত্তর বেড়েই চলেছে। ভাইরাস সংক্রমণের মধ্যেই আবার দেখা দিচ্ছে ফাঙ্গাস সংক্রমণ। ব্ল্যাক ফাঙ্গাস, হোয়াইট ফাঙ্গাস, ইয়েলো ফাঙ্গাস, পরপর এই তিন ধরনের ফাঙ্গাল ইনফেকশন মানুষের ভয় আরও বহুগুনে বাড়িয়ে তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইয়েলো ফাঙ্গাস অন্য দুই ফাঙ্গাসের চেয়ে আরও বেশি মারাত্মক ও ভয়াবহ।

ব্ল্যাক ফাঙ্গাস হোয়াইট ফাঙ্গাস নাকি ইয়েলো ফাঙ্গাস কোনটা বেশি মারাত্মক ?

আরো পড়ুন – থাইরয়েডের সমস্যা কে নিয়ন্ত্রন করবেন কি ভাবে ঘরোয়া উপায় জেনে নিন

এর মধ্যেই দেশের বেশ কয়েকটি রাজ্যে অতিদ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে এই তিন ফাঙ্গাসের সংক্রমণ। সিংহভাগ ক্ষেত্রেই, করোনা থেকে সেরে ওঠা ব্যক্তিদের মধ্যে এই তিন রকম ফাঙ্গাসের সংক্রমণ দেখা দিচ্ছে, এর ফলে মৃত্যুও হয়েছে বেশ কয়েকজনের।
ব্ল্যাক ফাঙ্গাস: ব্ল্যাক ফাঙ্গাসকে বলা হয় মিউকরমাইকোসিস এবং এটি তিন রকমের হয়। করোনা থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা ব্যক্তিদের মধ্যে ‘ব্ল্যাক ফাঙ্গাস’ সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে।

আরো পড়ুন – গ্রহ দোষ নিবারণের উপায় অব্যর্থ টোটকা

এটি সাধারণত দেহের অনুনাসিক গহ্বর , প্যারান্যাসাল সাইনাস-কে প্রভাবিত করে এবং চোখের উপর প্রভাব ফেলে রোগীকে সম্পূর্ণভাবে অন্ধও করে এবং সেখান থেকে এটি মস্তিষ্কে প্রসারিত হতে পারে। আরেক ধরণের মিউকরমাইকোসিস আছে, যা দেহের শ্বাসযন্ত্র ফুসফুসকে প্রভাবিত করে এর ফলে পালমোনারি মিউকরমাইকোসিস হয়। আর এর তৃতীয় প্রকারটি হল গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল মিউকরমাইকোসিস।

আরো পড়ুন – Bird Flue নিয়ে আবার শিরোনামে চিন, মানব শরীরে Bird Flue H10N3 স্ট্রেন

এই মারণরোগ মিউকরমাইকোসিস সাধারণত রক্তনালীকে আক্রমণ করে এবং রক্তনালীতে এই ছত্রাকের সংক্রমণ ছড়াতে থাকলে দেহে রক্ত প্রবাহ বন্ধ গিয়ে নানা অঙ্গে রোগ ধরে । রক্ত জমাট বেঁধে যায়। কোভিডে আক্রান্ত ডায়াবেটিস রোগীরা , যাদের স্টেরয়েড দেওয়া হচ্ছে, তাদের ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল রয়েছে। এটি প্রতিরোধ করার জন্য অত্যধিক পরিমাণে স্টেরয়েডের ব্যবহার বন্ধ করা উচিত।

আরো পড়ুন – চায়ের সাথে সিগারেট খাওয়া কতটা ক্ষতিকর জেনে নিন

ফুসফুসে প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে স্টেরয়েড একটি অপরিহার্য জিনিস , তবে এটি রোগীদের দেহে ইমিউনিটির উপরে প্রভাব ফেলে এবং ডায়াবেটিস রোগী ও নন-ডায়াবেটিক কোভিড রোগীদের দেহে রক্তে শর্করার মাত্রা অতিরিক্ত পরিমাণে বাড়িয়ে দেয়।
কোনও ব্যক্তির মধ্যে মিউকরমাইকোসিস সংক্রমণ হলে যে সমস্ত উপসর্গগুলি দেখা দেয় সেগুলি হলো – নাক বন্ধ, নাক দিয়ে রক্ত পড়া, মুখে ফোলাভাব, দাঁতে ব্যথা, বুকে ব্যাথা, চোয়ালে ব্যথা, চোখ জ্বালা ও ব্যথা, নাকের চারপাশে ব্যথা ও লালচে ভাব, চোখের দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসা, নাকের উপর কালচে দাগ ,ঘন জ্বর, মাথা যন্ত্রণা এবং কাশি, বমি।

 

আরো পড়ুন – ধূমপান কি করোনায় মৃত্যুর সম্ভাবনা ৫০ শতাংশ বাড়িয়ে দিচ্ছে ?

হোয়াইট ফাঙ্গাস হচ্ছে হোয়াইট ফাঙ্গাস ক্যান্ডিডা গ্রুপ-এর অন্তর্গত একটি ছত্রাক। এটিও দুর্বল প্রতিরোধ ক্ষমতাযুক্ত ব্যক্তি বা অন্য কোনও রোগে ভুগছেন এমন ব্যক্তিকে বেশি প্রভাবিত করে। হোয়াইট ফাঙ্গাস খুব দ্রুত সারাদেহের অন্যান্য অঙ্গের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে, যেমন – ফুসফুস, লিভার, কিডনি এমনকি যৌনাঙ্গ পর্যন্ত সংক্রমিত হতে পারে। এবং অঙ্গগুলিকে বিকলও করতে পারে। এছাড়াও এটি মস্তিষ্ক, শ্বাসযন্ত্র এবং ডাইজেসটিভ সিস্টেমকে প্রভাবিত করতে পারে। হোয়াইট ফাঙ্গাসে আক্রান্ত হলে যে উপসর্গগুলি দেখা দেয় – কাশি, ঘুষঘুষে জ্বর, ডায়ারিয়া, ফুসফুসে ডার্ক স্পট, রক্তে অক্সিজেন লেভেল কমে যাওয়া, মুখেফোলা, নানা জায়গায় ব্যথা এবং অবিরাম মাথা ব্যথা।

ব্ল্যাক ফাঙ্গাস হোয়াইট ফাঙ্গাস নাকি ইয়েলো ফাঙ্গাস কোনটা বেশি মারাত্মক ?

আরো পড়ুন – সার্জিকাল মাস্ক সংক্রমণ আটকে কতটা সক্ষম জেনে নিন আসল তথ্য

ইয়েলো ফাঙ্গাস নিয়ে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে , এই সংক্রমণটি সাধারণত সরীসৃপদের মধ্যে দেখা যায়। হোয়াইট ও ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের তুলনায় এটি আরও বেশি মারাত্মক বলে মনে করা হচ্ছে। এটিও প্রাথমিকভাবে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণেই সংক্রমণ হয়ে থাকে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, স্বাস্থ্যবিধি না মানা, খারাপ খাবার খাওয়া এই ফাঙ্গাসের সংক্রমণের জন্য দায়ী। ইয়েলো ফাঙ্গাসের সংক্রমণ সারা দেহের ভিতরে প্রভাব বিস্তার করে।

আরো পড়ুন – বরুণ ধাওয়ানের ডায়েট প্ল্যান Varun Dhawan Diet Plan

এর লক্ষণগুলি হল – অলসতা, ক্লান্তি, খিদে না হওয়া, ওজন ক্রমক কমে যাওয়া, চোখ বসে যাওয়া, ক্ষত ঠিক হতে দেরি হওয়া, ইত্যাদি।

হোয়াইট এবং  ইয়েলো ফাঙ্গাসের চিকিৎসা কি ভাবে করা হয়

ব্ল্যাক ফাঙ্গাস হোয়াইট ফাঙ্গাস নাকি ইয়েলো ফাঙ্গাস কোনটা বেশি মারাত্মক ?


১) ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত রোগীদের ENT ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া উচিত। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে এমআরআই করানো যেতে পারে। Amphotericin এবং Bisavaconazole, এই দুইরকম ওষুধগুলিই সাধারণত ব্ল্যাক ফাঙ্গাস রোগীদের দেওয়া হয়ে থাকে। এইরোগীর সারাদেহে সংক্রমণ কতদূর ছড়িয়েছে তার উপর নির্ভর করে চিকিৎসক সার্জারিও করতে পারেন।

২) হোয়াইট ফাঙ্গাস সাধারণত অ্যান্টি-ফাঙ্গাল ওষুধ দিয়ে সারানো হয়। ডায়াবেটিসের সাথে এটির সরাসরি কোনও সংযোগ না থাকলেও, তবে ডায়াবেটিস বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই ফাঙ্গাসের সংক্রমণ আরও বাড়িয়ে তোলে। ৩) ইয়েলো ফাঙ্গাসের একমাত্র চিকিৎসা হল Amphotericin B injection, যা হলো একটি অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধ যা ব্ল্যাক ফাঙ্গাস চিকিৎসার ক্ষেত্রেও জন্যও ব্যবহৃত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x
Translate »