প্রেগন্যান্সি টেস্ট সকালে কেন করা হয় ? রাতে এই পরীক্ষার সমস্যা কোথায় ?

প্রেগন্যান্সি টেস্ট পরীক্ষা রাতে করতে সমস্যা কোথায় ?

প্রেগন্যান্সি টেস্ট করার আগে প্রায় সব মহিলারই ভয়ে পেয়ে থাকেন। এইটাই স্বাভাবিক ঘটনা। কারন,   এই পরীক্ষা দ্বারা তিনি জানতে পাড়বেন যে তিনি  মা হতে চলেছেন আর যদি এই পরীক্ষায় ফেল করে যান !  যিনি মা হতে চান, তাঁর মনে একটি আতঙ্ক কার করে যে,  টেস্ট রিপোর্ট নেগেটিভ আসবে না তো?

আরো পড়ুন – থাইরয়েডের সমস্যা কে নিয়ন্ত্রন করবেন কি ভাবে ঘরোয়া উপায় জেনে নিন

আবার যিনি এখনই মা হতে চান না, তাঁর মনে উদ্বেগ তৈরী হয় যে, ‘রিপোর্ট যেন পজিটিভ না আসে।’ তাই প্রেগন্যান্সি টেস্ট করালে সব মহিলাই চান যে একদম পারফেক্ট রিপোর্ট।

গর্ভধারণ করেছেন কি করেননি, তা জানতে এখনকার দিনের প্রায় সব মহিলাই হোম প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিটের উপর নির্ভর করেন। বাড়িতে একবার দেখে নিয়ে তারপর অনেকে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার জন্য নমুনা পাঠান। কিন্তু প্রথম ধাপ হচ্ছে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হোম প্রেগন্যান্সি টেস্ট করানো । ৯৯ শতাংশ ক্ষেত্রেই বাড়িতে এই পরীক্ষার ফল সঠিক আসেই । তবে আমাদের শরীরের অনেক কিছু ব্যাপারের উপরে এই পরীক্ষার ফল ঠিক বা ভুল আসা অনেকটাই নির্ভর করে।

প্রেগন্যান্সি টেস্ট সকালে কেন করা হয় ? রাতে এই পরীক্ষার সমস্যা কোথায় ?

আরো পড়ুন – ব্ল্যাক ফাঙ্গাস হোয়াইট ফাঙ্গাস নাকি ইয়েলো ফাঙ্গাস কোনটা বেশি মারাত্মক ?

পিরিয়ড ঠিকমতো না হলে, শরীরে হরমোনের ইমব্যালান্স থাকলে এবং রোজকার জীবনযাত্রার ওপরেও এই পরীক্ষার রিপোর্ট অনেকটা নির্ভর করে। প্রচলিত মতানুসারে প্রেগন্যান্সি টেস্ট সকালে করা উচিত, এতেই পরীক্ষার রিপোর্ট সঠিক আসে।

রাতে এই টেস্ট করলে ভুল রিপোর্ট পাওয়ার সম্ভাবনা বহুগুন বেড়ে যায় বলে অনেকেই মনে করেন। কিন্তু সত্যিটা কি ?

আরো পড়ুন – আর্থিক উন্নতি তে বাধা কাটানোর সহজ উপায় ঘরোয়া টোটকা

বিশেষজ্ঞদের মতে, যে রাতে প্রেগন্যান্সি টেস্ট করা যেতেই পারে। তবে এর উপর ভুল রিপোর্ট পাওয়া নির্ভর করছে কিনা, তা এখনও কোনো গবেষণায় স্পষ্ট নয়। কারণ এই হোম টেস্ট কিটে যে প্রক্রিয়ায় জানা যায় কেউ গর্ভবতী কিনা, তা শরীরে human chorionic gonadotropin বা HCG নামক হরমোনের উপস্থিতির- উপর নির্ভর করে।

ওভালুয়েশন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার দশমতম দিনে শরীরে উত্‍পাদিত প্ল্যাসেন্টার উপর এই হরমোনের উপস্থিতি নির্ভরশীল। তা বাড়িতে টেস্ট কিটের দ্বারা নির্ধারণ করা সম্ভব, এই স্তরে এই হরমোন পৌঁছলে তবেই পরীক্ষার সঠিক ফল পাওয়া যায়।

আরো পড়ুন – ব্ল্যাক ফাঙ্গাস হোয়াইট ফাঙ্গাস নাকি ইয়েলো ফাঙ্গাস কোনটা বেশি মারাত্মক ?

সকালের প্রথমবারের ইউরিন দিয়ে এই পরীক্ষা করতে বলার কারণ, সকালের প্রথম ইউরিন বেশি ঘন হয়। যত বেলা বাড়ে, তত ইউরিন পাতলা হয় এবং তাতে HCG-র উপস্থিতি ক্রমেই কমতে থাকে।

তাই রাতে বাড়িতেই এই টেস্ট করলে আপনি গর্ভবতী হলেও রিপোর্ট নেগেটিভ আসতে পারে।

 

প্রেগন্যান্সি টেস্ট সকালে কেন করা হয় ? রাতে এই পরীক্ষার সমস্যা কোথায় ?

শারীরিক সম্পর্ক হওয়ার পর পিরিয়ড মিস হলে প্রেগন্যান্সি টেস্ট করতে পারেন। তবে অনিয়মিত পিরিয়ড হলে শেষ পিরিয়ডের তারিখের পর ৩৫-৪০ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। সঠিক রিপোর্ট পেতে গেলে রাতের থেকে সকালে টেস্ট করাই ভালো।

আরো পড়ুন – থাইরয়েডের সমস্যা কে নিয়ন্ত্রন করবেন কি ভাবে ঘরোয়া উপায় জেনে নিন

আপনার যদি মনে হয় আপনি যে প্রেগন্যান্ট, তাও যদি রিপোর্ট নেগেটিভ আসে, তাহলে সেক্ষেত্রে হোম টেস্ট কিটের ভরসায় না থেকে ল্যাবরেটরি থেকে একবার পরীক্ষা করিয়ে নিয়ে নিশ্চিত হন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x
Translate »