কে হবে রাজ্যে বিজেপির মুখ , এই একটি প্রশ্নেই জেরবার বঙ্গ বিজেপি

কে হবে রাজ্যে বিজেপির মুখ, এই একটি প্রশ্নেই জেরবার বঙ্গ বিজেপি

বিশেষ প্রতিবেদন সঞ্জয় সাহা রাজ্যে বিজেপির মুখ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের এখনো বেশ কিছুটা সময় বাকি রয়েছে। কিন্তু একুশের গেমপ্ল্যান প্রায় সবকটি রাজনৈতিক দলই শুরু করে দিয়েছে তাদের নিজেদের মত করে। তৃণমূলের দিদিকে বল বা সোজা বাংলায় বলছির মত কর্মসূচি যেমন একদিকে শুরু হয়েছে তেমনই বামেরা তাদের রেড ভলেন্টিয়ার্সদেরকে নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণের মধ্যে পৌঁছে যাওয়ার চেষ্টা করছে।

কে হবে রাজ্যে বিজেপির মুখ, এই একটি প্রশ্নেই জেরবার বঙ্গ বিজেপি

সরকারে না থাকলেও মানুষের দরকারে যে তারা আছে তা বোঝাতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে সিপিআইএম তথা এ রাজ্যের বাম যুব নেতৃত্ব। অন্যদিকে রাজ্য বিজেপি এ ব্যাপারে মোটেই নেই। দলের শীর্ষ নেতারা যেমন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে ঘুরে একুশের জমি প্রস্তুত করছেন তেমনই ভার্চুয়াল প্রচারের মাধ্যমে বিজেপির কথা পৌঁছে দিচ্ছেন জনগণের কাছে।

কিন্তু সম্ভবত একুশের নির্বাচনের আগে বিজেপির গলার সবথেকে বড় কাঁটা হয়ে উঠতে চলেছে তাদের দলের মধ্যে বাড়তে থাকা অন্তর্কলহকে আটকানো। এ রাজ্যে চিরকালই বিজেপির একাধিক গোষ্ঠী শুরু থেকেই ছিল। দিলীপ ঘোষের প্রথমবার বিজেপি রাজ্য সভাপতি হওয়ার পর পূর্বতন রাজ্য সভাপতি রাহুল সিনহার সাথে তার সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠতে পারেনি। তবে দলের মধ্যে দিলীপ এবং রাহুলের নিজস্ব গোষ্ঠী থাকলেও তাদের মধ্যবর্তী বিভাগ কখনোই সেভাবে প্রকাশ্যে আসেনি। কিন্তু মুকুল রায়ের বিজেপিতে যোগদানের পর থেকে বিজেপির মধ্যবর্তী অন্তর্দ্বন্দ্ব ক্রমশ বাড়তে শুরু করে।

কে হবে রাজ্যে বিজেপির মুখ, এই একটি প্রশ্নেই জেরবার বঙ্গ বিজেপি

দিলীপ ঘোষের উপস্থিতিতেই কেশব ভবন মুকুল রায় কে বরণ করে নিলেও কেশব ভবন এর নেতাদের সাথে মুকুলের সম্পর্ক কোনোকালেই বিশেষ মধুর নয়। তুলনায় মুকুলের সম্পর্ক বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে অনেক বেশি বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা দাবি করেন। বিশেষত বাংলায় বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়ই যে মুকুলের সবচেয়ে বড় রক্ষক এবং সমর্থক তা একাধিকবার সামনে এসেছি।

মুকুল রায়ের বিজেপিতে যোগদানের পর থেকেই বিজেপিতে একাধিক তৃণমূল নেতাদের আনাগোনা বাড়তে থাকে। উনিশের নির্বাচনে অভাবনীয় সাফল্য তৃণমূল থেকে বিজেপিতে আসা নেতাকর্মীদের স্রোতকে আরো বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বিজেপির অন্দরে মুকুল এর গুরুত্ব বেড়েছে। বিশেষত ১৮ টি লোকসভা আসনে বিজেপি জয়লাভ করেছে তাতে মুকুল ফাক্টরই সবথেকে বেশি কাজ করেছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক মহল।

বিজেপির জয়ী প্রার্থীদের অনেকেই তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে এসেছিলেন এবং এরা পার্টিতে মুকুল অনুগামী রূপেই পরিচিত। বিগত পঞ্চায়েত ভোটেও গ্রাম বাংলায় বিজেপির যে ভোট বেড়েছে তাতে মুকুলের যোগদান একটি বিশেষ ভূমিকা পালন করেছিল বলেই মনে করেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

বাংলার রাজনীতিতে মুকুল তৃণমূলের চাণক্য রূপে পরিচিত ছিলেন। এ রাজ্যের একাধিক নির্বাচনে তিনি ছিলেন নেত্রীর প্রধান নির্বাচনী ম্যানেজার। বাংলার প্রতিটি জেলাতে তৃণমূলের সংগঠন তৈরিতে মুকুলের যে ব্যাপক পরিশ্রম কাজ করেছিল তা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। ফলে এহেন রাজনীতির ‘মাস্টারমাইন্ড’ কে হারিয়ে তৃণমূলের যতটা ক্ষতি হয়েছে বিজেপির লাভ হয়েছে ঠিক ততটাই।

যদিও এর আগেও দিলীপ ঘোষ, মুকুল রায় কে ‘চাটনি’র সাথে তুলনা করে তার গুরুত্বকে কম করে দেখানোর চেষ্টা করেছিলেন, তথাপি বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যে মুকুল রায়ের ওপর যথেষ্ট ভরসা করেন তা একাধিকবার প্রকাশ পেয়েছে এবং এটাই এখন সবথেকে অস্বস্তির কারণ দিলীপ শিবিরের কাছে।

কে হবে রাজ্যে বিজেপির মুখ, এই একটি প্রশ্নেই জেরবার বঙ্গ বিজেপি

বিশেষত মুকুলের হাত ধরে একাধিক তৃণমূলীদের বিজেপিতে আসা এবং রাতারাতি তাদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ প্রাপ্তিতে রীতিমতো ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন আদি বিজেপি কর্মীরা। সম্প্রতি হুগলির একটি সভায় রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ এবং সাধারন সম্পাদিকা লকেট চট্টোপাধ্যায় এর সামনেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন আদি বিজেপি কর্মীগণ। সূত্রের খবর এটি শুধু একটি জেলার অবস্থা নয়, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে যেখানে যেখানে বিজেপি তার শক্তি বৃদ্ধি করছে সেখানেই এই আদি ও নব্য বিজেপির সংঘাত জমে উঠছে।

খুব স্বাভাবিকভাবে স্থানীয় স্তরে যেখানে এধরনের ক্ষোভ দেখা যাচ্ছে সেখানে রাজ্যে বিজেপির রাশ আগামীদিনের কার হাতে থাকবে তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। ইতিমধ্যে বেশ কয়েক বছরের রাজনৈতিক বানপ্রস্থ জীবন থেকে হঠাৎই সক্রিয় রাজনীতিতে যোগদানে উৎসুক তথাগত রায় একুশের নির্বাচনে বিজেপির নেতৃত্ব দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু রাজনৈতিক মহলের মতে আসল লড়াই দিদি ও মুকুল শিবিরের মধ্যেই।

কিছুদিন আগে দিল্লিতে হওয়া বিজেপির রাজ্য নেতাদের সাথে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বৈঠকের মাঝপথেই কলকাতায় চলে আসেন মুকুল রায়। সেসময় যোগ্য সম্মান না পেয়ে মুকুলের তৃণমূলে প্রত্যাবর্তনের ব্যাপক গুঞ্জন শুরু হয়েছিল বাংলার রাজনৈতিক মহলে।

Monalisa কালো বিকিনিতে স্বামীর সাথে জলকেলিতে মগ্ন

এসময়ই রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ একুশের নির্বাচনে জয় লাভের জন্য তিনি যে একাই যথেষ্ট এই দাবি করেন। কিন্তু কিছুদিন কাটতে না কাটতেই কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয় জানিয়ে দেন যে একুশের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বেই রাহুল-দিলীপ-মুকুল সকলে একসাথে বাংলায় বিজেপিকে জেতার জন্য লড়াই করবে।

যদিও গত শুক্রবার রেড রোডে আয়োজিত বিজেপির ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ মঞ্চ থেকে কৈলাস দরাজ গলায় মুকুলের প্রশংসা করে সরাসরি বলেন যে রাজ্যে মুকুলই যেভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে মুখ্যমন্ত্রী করেছিলেন ঠিক সেভাবেই তাকে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে তিনিই সরাবেন।

বিজেপির নবগঠিত রাজ্য কমিটিও ক্রমে মুকুলময় হয়ে উঠছে বলে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মত। এমতাবস্থায় ঐক্যবদ্ধ লড়াই এর ডাক দেওয়া হলেও আগামী দিনে নির্বাচনের সময় বিজেপির নেতৃত্ব কে দেন এবং কে এই রাজ্যে বিজেপির মুখ হবেন তা নিয়ে সরগরম বিজেপির অন্দরমহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x
Translate »